
স্টাফ রিপোর্টার :
রেলের কুৃমিল্লার পূদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে শনিবার মধ্যরাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ে। সকাল ৯ টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশের বেড়িয়ার অক্ষত আছে। হামলার আশংকার গেইটম্যান ঊধাও। বাসের ভাঙ্গা গ্লাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলের ১০/১২ গজ দুরে রেললাইনে বাসের দুটি চাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের পাশে রেলের কর্মীদের থাকার একটি কক্ষও ( ই ৪৭) তালাবন্ধ দেখা যায়।
পাশের চা দোকানি আবু তাহের বলেন, দিনে রাতে এ রেল গেটে ৪ জন দায়িত্ব পালন করে। ঘটনার রাতে দায়িত্বে কে ছিল তা তিনি জানেন না বলেও জানান। ঘটনাস্থলে তদন্তে আসা পিবিআই কুৃমিল্লার একজন পরিদর্শক সমকালকে বলেন, আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনার সময় গেটম্যান গেট না ফেলায় বাস রাস্তা ফাকা পেয়ে রেল লাইনে উঠে যায়। এসময় ট্রেনটি বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দুরে নিয়ে যায়।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে আসা কুৃমিল্লা রেলওয়ে বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী সমকালকে বলেন, ২৪ ঘন্টাই ব্যস্ততম গেটে আমাদের লোকজন থাকে। গত রাতে গেটম্যান ভুলে হয়তো গেট ফেলেনি। তাকে সাসপেন্ড করার বিষয়টি প্রক্রিধীন।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ দুর্ঘটনায় যাদের অবহেলা ছিল আমরা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কাজ শুরু করোছে। বেলা ১১ টার দিকে রেল যোগাযোগ সচল হয়েছে বলেও তিনি জানান। আটকে পড়া মহানগর প্রভাতি ও কর্ণফুলী ঘটনাস্থল অতিক্রম করে গন্তব্যে গিয়েছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু: রেজা হাসান বলেন, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছেন। ৫ জন এখনো কুৃমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) মধ্যরাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে লহ্মীপুরগামী মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া একটি মেইল ট্রেন। এতে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয। ট্রেনটি বাসটিকে টেনে হিচড়ে আধা কিলোমিটার দুরে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে নিহতদের সকলেই বাসের সামনে ও মাঝামাঝি ছিলেন।