
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মাদক সরবরাহে বাধা দেওয়ায় হাবিবুর রহমান রায়হান নামের এক ছাত্রদল নেতাকে আহত করেছে মাদককারবারীরা। রায়হান এপ্রতিষ্ঠানের পাওয়ার ডিপার্টম্যান্টের ২১-২২সেশনের ছাত্র। সে কুমিল্লার সালমানপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। এই হামলায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র ও সাংগঠনিক নেতাকর্মীরা। হাসপাতালে আহত ছাত্রনেতা রায়হানকে দেখতে আসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমাদাদুল হক ধিমানসহ তার শিক্ষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার ডিপার্টম্যান্টের ছাত্র আলিফ মমিন জানান,বিকেল ক্যাম্পাসে রায়হানের উপর ছাত্রলীগ নেতা আরমান,কাকন,সামিরসহ বহিরাগতরা হামলা করেন। এতে রায়হানের মাথা ফেটে যায়। আমার ল্যাব পরীক্ষা শেষ করে এসে দেখি গুরুতর আহত অবস্থায় রায়হান পড়ে আছে। আমি তাকে হসপিটালে নিয়ে আসি। তিনি আরো বলেন, বহিরাগতদের নিয়ে তারা অনেক দিন ধরে হলে মাদক সাপ্লাই দেয়। রায়হান তাদের বাধা দেয়। এতে মাদক কারবারীরা ক্ষিপ্ত হয়। এই শত্রুতার জের ধরে ৩মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় ক্যাম্পাসে রায়হানের ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো: মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ঘটনার বিষয়টি শুনে আমি রায়হানকে দেখতে আসি। রায়হান একজন জুলাই যোদ্ধা এবং সে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ক্যাম্পাসে রায়হানের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ছাত্রলীগের ক্যাডার সন্ত্রাসীরা বিগত দিনে ক্যাম্পাস গুলোকে মাদকের আখড়া বানিয়েছিল, যা এখনো বিভিন্ন ক্যাম্পাসে চলমান। রায়হান তা জানতে পেরে বাধা দেওয়ায় তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। আমরা পলিটেকনিক প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি যেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়। তাদেরকে ক্যাম্পাস থেকে যেন স্থায়ী বহিস্কার করা হয়।
কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টম্যান্টের শিক্ষক রুহুল আমিন জানান,আমরা রায়হানকে দেখতে এসে যা দেখেছি তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন ওকে সিটিস্ক্যান করানোর পর বিস্তারিত বলা যাবে। আমরা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবো।