
স্টাফ রিপোর্টার।
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, যারা নদী খাল দখল করে রেখেছে তারা প্রভাবশালী নয়, বরং অন্যায়কারী, দুষ্কৃতকারি। তাদেরকে এসব দখল ছেড়ে দিতেই হবে। যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন দখলে রাখার সুযোগ নাই।
মন্ত্রী সোমবার দুপুরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল থেকে দেশব্যাপী সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই খালটির ৫ হাজার ৩শ মিটার খনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, এদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে কৃষির সাথে জড়িত। তাই কৃষির উন্নয়নে নদী ও খালের উৎস থেকে পানির মাধ্যমে সেচের ক্ষেত্রে কৃষিতে উন্নয়ন হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে খাল খননের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) এর সংসদ সদস্য মো: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু: রেজা হাসান। এসময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণ উপস্হিত ছিলেন।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশাঁরি চর মাঠ থেকে ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত খালটি খননের জন্য বিএডিসি নির্ধারন করেছে। এই খাল খননের ফলে ৪২ গ্রামের প্রায় ২৫০০ কৃষি পরিবার উপকৃত হবে। ২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রান পাবে।