
স্টাফ রিপোর্টার।
কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ঘটিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে নগরীর পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের ৪ গেইটম্যান, বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের দুই গেইটম্যান, লালমাই রেলস্টেশন মাষ্টার, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের দুইজন লোকোমাস্টার, সড়ক বিভাগের নির্মাণ কাজ এবং বাস চালকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর সমকালকে এসব তথ্য জানান। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী।
প্রতিবেদনে অন্তত ৬ টি বিষয়ে ব্যতয় উঠে এসেছে এবং বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভাগ দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৮ টি সুপারিশ করেছে কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী সমকালকে বলেন, স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানদের মোবাইল কল লিস্ট যাচাই করা হয়েছে। লোকোমাস্টার রাস্তার সিগন্যাল না দেখে ট্রেনের গতি কমাতে পারতেন। বাস চালক রেলের ওভারপাস ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন। তাই প্রতিবেদনে সকলের অবহেলার বিষয় তুলে আনা হয়েছে। সাক্ষী নেয়া হয়েছে ২৪ জনের।
গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং এ দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটিতে প্রধান ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্র্যাট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী, সহকারী পরিচালক বিআরটিএ ফারুক আলম, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।
লেভেল ক্রসিং-এ চলন্ত ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় অন্তত আরো বিশ জন। ঘটনার পর এক বাস যাত্রীর করা মামলায় এ পর্যন্ত তিনজন গেটমেনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ।