
স্টাফ রিপোর্টার :
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে (কুসিক ) পুর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো: ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। শনিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন- ১ শাখার উপসচিব মো: রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুসিকের প্রশাসক পদে কে নিয়োগ পাচ্ছেন এ নিয়ে দলীয় অঙ্গনে জল্পনা কল্পনা চলছিল। পদ পেতে হাফ ডজনাধিক বিএনপি দলীয় নেতার নাম আলোচনায় আসে। এ নিয়ে দলের হাইকমান্ডের নিকট কেউ কেউ জোর লবিংও চালান। তবে সব ছাপিয়ে কুসিকের ৬ষ্ঠ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন টিপু। এদিকে টিপু প্রশাসক পদে দায়িত্ব পাওয়ার খবরে তার অনুসারীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস আনন্দ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ছবি দিয়ে অনেকেই অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
টিপু ‘বিবেক’ নামের একটি মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। যা করোনাকালীন মরদেহ দাফন ও বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। তিনি তখন ‘বিবেক’ নামে একটি মানবিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সংগঠনের মাধ্যমে নগরবাসীর ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে ছিলেন তিনি। করোনাকালে যখন সন্তান বাবার লাশ স্পর্শ করত না, স্ত্রী স্বামীর পাশে দাঁড়াত না, তখন ইউসুফ মোল্লা টিপুর নেতৃত্বে বিবেক সংগঠনই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকার করেছেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজ করে যাচ্ছে বিবেক। যে দিন (শনিবার) টিপুর সংগঠন বিবেকের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন চলছিল তখনই আসে প্রশাসক পদে নিয়োগের এ সুসংবাদটি। টিপুর প্রশাসক পদে নিয়োগ লাভের বিষয়টি নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই জানিয়েছেন টিপুর হাত ধরেই নগরীর প্রধান সমস্যা গুলি নিরসন হবে।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, টিপু ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ইতিপূর্বে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর আগে ২০২২ সাল থেকে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে কুমিল্লা নগরী নিয়ে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। আল্লাহর নিকট শোকরিয়া। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। আশা করি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কুসিক নগরীকে একটি মডেল নগরী হিসেবে রুপ দিতে পারবো। টিপু বলেন, নগরীর প্রধান সমস্যা যানজট ও জলাবব্ধতা। নগরবাসীর এসব ভোগান্তি নিরসনে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুজন, কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্য লোক নিয়োগ করতে ভুল করেননি। টিপু একজন মানবিক লোক। তার মানবিক সংগঠন বিবেক এর মাধ্যমে করোনাকালীন শত শত মরদেহ দাফন করেছেন। ঘরে ঘরে বিনামুল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করেছেন। আশা করি তাঁরই (টিপু) কাজের মাধ্যমে নগরবাসী উপকৃত হবে।’
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার একযুগ পরও নগরীতে সমস্যা অনেক। এতে নাগরিকদের প্রত্যাশা কমও নয়। নতুন প্রশাসক টিপু সকলের নিকট জনপ্রিয়। তিনি নগরীরই সন্তান। নগরীর প্রতিটি সমস্যা তাঁর জানা। তিনি নগরীর উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে আশা করি।’
নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রথম প্রশাসক পদে যোগ দেন যুগ্ম সচিব মো. নাছির উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিলেন। পরে দ্বিতীয় প্রশাসক হিসেবে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ১৭ মে পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সময়ে ছিলেন কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম। ২০২২ সালের ১৭ মে থেকে ২০২২ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত তৃতীয় প্রশাসক ছিলেন উপসচিব ড. সফিকুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রশাসক ছিলেন বার্ডের মহাপরিচালক ( অতিরিক্ত সচিব) সাইফ উদ্দিন আহমেদ।
সর্বশেষ গত বছরের ৩১ আগস্ট প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন কুৃমিল্লার সন্তান যুগ্ম সচিব শাহ আলম। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরুড়া উপজেলার জোড়পুকুরিয়া (পূর্ব) গ্রামে। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পঞ্চম প্রশাসক ছিলেন। শনিবার নিয়োগ পাওয়া ৬ষ্ঠ প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।