
স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও ঢাকা ইসলামপুরের সফল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম শখের বসে নিজের ১০৫ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। দাসকান্দি বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন গোমতী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জগতপুরগামী সড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই সূর্যমুখী ক্ষেত ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে।
কম খরচে বেশি ফলন এবং তেলজাত ফসল হিসেবে বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় সূর্যমুখী চাষ এখন কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফসলি জমির বুকে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল ভোরের সোনালি রোদে ঝলমল করে ওঠে।
দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ পাতার আড়াল থেকে হলুদ সূর্যমুখীগুলো মুখ উঁচু করে হাসছে।
সূর্যের মতো আকৃতি এবং সূর্যের দিকেই মুখ করে থাকার বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ফুলের নাম সূর্যমুখী। তিতাসের দাসকান্দি এলাকায় গড়ে ওঠা এই সূর্যমুখীর ক্ষেতে প্রতিদিনই বসছে প্রজাপতি ও মৌমাছির মেলা। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য শুধু কৃষকদেরই নয়, ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদেরও আকৃষ্ট করছে।
প্রতিদিন সূর্যমুখীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং মোবাইলে সেলফি তুলতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন ক্ষেতে। বিশেষ করে বিকাল হলেই দলে দলে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন সূর্যমুখী ক্ষেতে।
তবে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন চাষিরা। কারণ একটি সূর্যমুখী গাছে একটি মাত্র ফুল ধরে এবং প্রতিটি ফুলে থাকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বীজ। ফলে ফুল নষ্ট হলে সরাসরি উৎপাদনে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে ফুল রক্ষায় জমির মালিককে রীতিমতো পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
সূর্যমুখী চাষের জমিটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাসুম জানান, দাসকান্দি গ্রামে সূর্যমুখী ফুলের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী দর্শনার্থীরা আসছেন। তবে ফুল ছিঁড়ে নেওয়ার কারণে চাষিদের উদ্বেগও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে তিতাস উপজেলার দাসকান্দি গ্রামে গড়ে ওঠা এই সূর্যমুখীর ক্ষেত এখন প্রকৃতি ও কৃষির এক অনন্য সৌন্দর্যের নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।