সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
সারাদেশে
কুমিল্লার ইতিহাসে রেকর্ড ৬ষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন কায়কোবাদ সরকার গঠন মঙ্গলবার তিতাসে নবনির্বাচিত এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা বিনিময় রুমিন ফারহানাসহ নির্বাচনে জয়ী সাত নারী প্রার্থী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে : ইসি এবার তারেক রহমানকে ফোন করলেন মোদি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির জয় ৮টি, একটি করে জামায়াত , এনসিপি ও স্বতন্ত্র কুমিল্লায় র‍্যাবের অভিযানে পুকুরে লুকানো থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ

সরকার গঠন মঙ্গলবার

  • আপডেট সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ দেখেছেন :

ঢাকা অফিস 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এরমধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের এক নতুন অধ্যায়। গতকাল শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। পরে একই দিন বিকালে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। এর আগে গতকাল দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। খুব দেরি হলেও এটা ১৬ কিংবা ১৭ (ফেব্রুয়ারি) তারিখ। এর পরে যাবে না। প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘শপথের প্রস্তুতির কাজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ (গতকাল) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুতগতিতে চলছে। প্রধান উপদেষ্টা কালকেও কাজ করেছেন, আজকেও (গতকাল) করছেন। টিম কাজ করছে, ক্যাবিনেট কাজ করছে।’
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তার মনোনীত ব্যক্তি। তিন দিনের মধ্যে এটি না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
এদিকে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। একই দিনে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সেজন্যও প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি তো থাকবেই। প্রস্তুতি আমরা অনেক আগে থেকেই শুরু করেছি। এটা আমাদের সাধারণ দায়িত্ব।’ শপথের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের বিষয় না, আমরা প্রস্তুত। যেদিন বলা হবে, সেদিনই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।’
শপথ না নিলে কার্যকর নন : সংসদীয় কার্যপ্রণালীর সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘শপথগ্রহণ না করা পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে কার্যকর হন না। ফলে সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, চিফ হুইপ মনোনয়ন, সংসদীয় দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, এসব শপথের পরই কার্যকর হবে।’ তার কথায়, দল তাদের সংসদীয় নেতা বা চিফ হুইপের নাম স্পিকারের কাছে জানায়। স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সেসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবার স্পিকার পদ শূন্য থাকায় প্রথম অধিবেশন কে পরিচালনা করবেন তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, অতীতে এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির আছে।
যে দিন এমপি, সে দিনই মন্ত্রী : আইনপ্রণেতাদের শপথের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বলেন, শপথের দিনই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোতে পারে। তিনি বলেন, ‘যে দিন সকালে এমপি, সে দিনই বিকালে সরকার’ এমন সম্ভাবনাই বেশি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। যদিও সংসদ সদস্যদের শপথের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা একই দিনে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পড়াবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই পড়াবেন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
শপথগ্রহণের পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের নেতা নির্বাচন করবেন এবং যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তখন এই ঘটনাটি জানিয়ে দিবেন যে, তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য অফার করবেন বা নিয়োগ দান করবেন।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এরপর একটা সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে সেই সময় শপথ (নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য) গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি যে, আগামী তিন দিন বা ম্যাক্সিমাম চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে। এর চাইতে আর কিছু বলার নেই।
সংসদ ভবন প্রস্তুত : শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও সম্পন্ন হয়েছে।
সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকা শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ গতকাল বলেন, ‘সংসদ রেডি। সব অফিস রেডি। এখন শেষ মুহূর্তের ক্লিনিং আর মপিং চলছে।’ শপথ কক্ষ, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এমপি হোস্টেলসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।
জ্যেষ্ঠ সদস্যদের তালিকা : এদিকে সকালে সংসদ সচিব বিগত দিনের নির্বাচিত সদস্যদের একটি তালিকা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। তালিকা অনুযায়ী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও জয়নুল আবদিন ফারুক সবচেয়ে বেশিবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এবং এবারও নির্বাচিত হয়েছেন। গেজেট প্রকাশের পর শপথ, এরপর সরকার গঠন ও প্রথম অধিবেশন এই ক্রমধারায় নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
এক হাজার আমন্ত্রিত অতিথি : এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে বর্ণাঢ্য করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক উদ্যোগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার অতিথিকে এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হবে।
শপথে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিএনপির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, ঢাকায় তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণের প্রস্তুতি চলছে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মূল আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় থাকবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনন্য ক্যাটাগরির সংবাদ
© All rights reserved © Comillakantha.com
Theme Customized By Mahfuz