মেলায় ঘুরতে এসে চাকরি পেয়ে খুশি হয়েছেন তরুণরা। শনিবার নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কলেজ, কুমিল্লার আঙিনায় এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। এখানে জব ফেয়ারের সাথে কলেজ মিলনায়তনে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এদিকে সরাসরি দক্ষ কর্মী নিয়োগ দিতে পেরে খুশি বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আয়োজকরা জানান, এতে ভুয়া নার্সের আধিপত্য কমবে। দক্ষ কর্মীর মাধ্যমে মানুষের সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে।
সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়,কলেজ আঙিনায় উৎসবের আমেজ। এমন আয়োজন কুমিল্লায় প্রথম। ব্যতিক্রম আয়োজন নিয়ে সদ্য কোর্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ আগ্রহ। বিভিন্ন হাসপাতাল তাদের স্টল সাজিয়ে বসেছে। সেখানে সিভি জমা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মেলায় ১০ স্টল দেন বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ৩০টি প্রতিষ্ঠান সেখানে অংশ নেন। এই মেলায় ভিড় জমান ২শতাধিক শিক্ষার্থী।
সেমনিারে প্রধান অতিথি ছিলেন,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. সজিবুর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কলেজ, কুমিল্লার অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন,কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফাতেমা খাতুন,কারিগরি অধিদপ্তরের এসেট প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মেহবুব সাঈদ।
মেলায় এসে চাকরি পাওয়া ইসরাফিল আহমেদ,সৈয়দা তাবাসসুম নাভা ও ফাতেমা আক্তার বলেন, এমন আয়োজন কুমিল্লায় প্রথম। মেলায় এসে সিভি দিলাম। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান সরাসরি চাকরি দিয়ে দিলো। এটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আগে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ঘুরতাম। এখন সরাসরি চাকরিদাতারা এসে যাছাই করে চাকরি দিচ্ছেন।
চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মডার্ন হসপিটালের এডমিন বিভাগের কর্মকর্তা মারুফ আল হোসাইন ও গোমতী হাসপাতালের এডমিন বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল কাদের জিলানী বলেন.এখানে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নার্স খুঁজতে আমরা মেলায় অংশ নিয়েছি। যাতে আমরা ভালো ভাবে মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারি। এখানে এসে দক্ষ কর্মীর সন্ধান পেয়েছি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. সজিবুর রশিদ বলেন,নার্সরা সরকারি নিয়োগে ১০ম গ্রেডে বেতন পান। বেসরকারি হাসপাতালও যেন তাদের সেভাবে বেতন দেয়া হয়। যেন বাধ্যতামূলক ভাবে পাশ করা প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ দেয়া হয়। এতে সেবার মান আরো বাড়বে।
অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম সরকার বলেন, কুমিল্লায় এ ধরনের জব ফেয়ার এবার প্রথম আয়োজন করা হয়েছে। নার্স ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধন সৃষ্টি করে দিতে আমাদের এই আয়োজন করা হয়েছে। এখানে দুই পক্ষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।
সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন,এই আয়োজনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। বিভিন্ন হাসপাতালে অভিজ্ঞ নার্সের অভাব এই মেলার মাধ্যমে কমবে। এতে জেলার স্বাস্থ্য সেবার মান আরো উন্নত হবে।