
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুরাদনগরবাসী ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই একটি মহল এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পর থেকে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত গুজব অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য কায়কোবাদের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নেই। একইভাবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগেরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের একটি বক্তব্যের পর থেকেই ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এসব গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “মুরাদনগরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে বিতর্কিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আওয়ামী লীগের সাথে মিলে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে। ক্ষমতার লোভে দিশেহারা জামায়াতে ইসলামী এখন সেই দুর্নীতিবাজ আসিফের সঙ্গে মিলে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজ হবে না। আসিফের দেওয়া বক্তব্য অসত্য এবং ভিত্তিহীন।”
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “কায়কোবাদকে মুরাদনগরের মানুষ ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। জনপ্রিয় এ নেতাকে আওয়ামী লীগ গুলি করে হত্যা করে ব্রিকফিল্ডে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। দুর্নীতিবাজ আসিফ গত দেড় বছর এহেন কোনো ষড়যন্ত্র নাই—যা সে করেনি। এখন সে দাদার বিরুদ্ধে ধর্ম ব্যবসায়ী জামায়াতের সঙ্গে মিশে দৈত্ব নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপীর অভিযোগ এনেছে। দুটি অভিযোগ-ই মিথ্যা এবং নির্বাচন ঘিরে অপপ্রচার মাত্র।”
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোন নাগরিক যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে প্রার্থী হতে বাধা থাকবে না।