
প্রতিনিধি, চৌদ্দগ্রাম
সবজি গাছের ভারে ন্যুব্জ ঢাকা-চট্টগ্রামের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম একালায় সড়ক বিভাজকে সৌন্দর্য বর্ধনে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। মহাসড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের লাগানো লাউ, সিম, ধুন্দল গাছ বেয়ে উঠায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও জনপদের লাগানো গাছ গুলো। লতানো সবজি গাছের ঝাড়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে ফুলের সুভাস ও সৌন্দর্য ছড়ানো বকুল, কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, রাধাচ‚ হৈমন্তী, টগর, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া গাছ।
সরজমিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা অংশ ঘুরে দেখা যায়, বিভাজকের অনেকাংশেই করা হয়েছে শাক-সবজি চাষ। ছোট ছোট বেডে চাষ করা এসব শাক-সবজি দৃষ্টি কাড়বে যে কারো। এসব শাক-সবজি উৎপাদনে হয়তো চাহিদা মিটবে চাষাবাদ করা পরিবারগুলোর। তবে লাউ, সিম ও ধুন্দল গাছ চড়েছে সৌন্দর্য বর্ধণ করা বিভাজকের গাছ গুলোর কান্ডে। সিম গাছ সেগুলোকে এমনভাবে মুড়িয়েছে তাতে বোঝার উপায় নেই সেখানে অন্য কোনো গাছ আছে। এসব সিম গাছের ভারে নুয়ে পড়েছে অধিকাংশ গাছ। ডালপালা ভেঙ্গে মরে যাচ্ছে কোনো কোনোটি।
তবে সচেতন স্থানীয়রা অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপদ কুমিল্লা অফিসের সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন তদারকি ও যত্ন না থাকায় যার যেমন ইচ্ছে তেমনই করছে। অনেকেই শাক সবজি চাষের সুবিধার্থে গাছ কেটে ফেলছে। আগাছা পরিষ্কার করতে আগুন দিয়ে মেরে ফেলছে গাছ।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) সাধারণ সম্পাদক এয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘বিভাজকের গাছ গুলো শুধু সৌন্দর্য বর্ধন নয়, রাতের বেলায় দুই মুখী যানের হেডলাইটের আলোতে যেন সমস্যা না হয় সেই কাজও করে। এগুলো যেভাবে শাকসবজি চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে তাতে করে রাতের বেলায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়বে।’
চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: এমদাদ উল্লা বলেন, ‘তদারকির দায়িত্ব সড়ক ও জনপদের হলেও তাদেরকে কখনো এসব গাছের যত্ন নিতে যায়নি। সরকারের বিপুল অর্থব্যয়ে লাগানো এসব গাছ অযত্ন অবহেলায় মরে যাচ্ছে।’
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর কুমিল্লা’র নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছে। দাউদকান্দি থেকে জেলার ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়েছে। বিভাজকের গাছ গুলো রক্ষার্থে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’