
প্রতিনিধ, লাকসাম
লাকসাম, কুমিল্লা: পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার জনজীবন। আজ ২৮শে ডিসেম্বর, ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১২টা পার হলেও লাকসাম পৌর শহরসহ উপজেলার প্রতিটি গ্রাম এখনো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি, ফলে তীব্র শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
সকাল থেকেই লাকসাম জংশন, দৌলতগঞ্জ বাজার এবং বাইপাস এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে এসেছে। দিনের বেলাতেও সড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। কুয়াশার কারণে দূরপাল্লার বাস ও ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। লাকসাম জংশনে আসা যাত্রীরা কনকনে শীতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তীব্র ঠান্ডার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে গ্রামের শিশু ও কিশোররা। কুয়াশার কারণে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গ্রামের অনেক এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমিকরা। কনকনে শীত ও কুয়াশার কারণে খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজে বের হতে পারছেন না। রিকশাচালক, ভ্যানচালক এবং নির্মাণ শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা।
করিম মিয়া (একজন রিকশাচালক) বলেন, “আজ দুপুর হয়ে গেল অথচ কুয়াশার কারণে রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। ভাড়ায় লোক পাচ্ছি না, আর ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে।”
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো বীজতলা ও শীতকালীন সবজির ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আলু ও সরিষা চাষীরা কুয়াশা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই শীতের প্রকোপ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাউসার হোসেন
01646 175 157