
প্রতিনিধি, মুরাদনগর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। পাহাড়পুর এমদাদুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দারা বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে পাহাড়পুর এমদাদুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে স্বস্তির সঙ্গে ভোট দিলেও পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ভোট কারচুপির সুবিধার্থে কেন্দ্রটি সরিয়ে ডেকরিপাড় ফোরকানিয়া মাদরাসায় স্থানান্তর করে। বর্তমানে ভোটারদের আরেকটি কেন্দ্র অতিক্রম করে ৪-৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ডেকরিপাড় কেন্দ্রে যেতে হয়, যেখানে আওয়ামী লীগের আধিপত্য রয়েছে। ফলে, ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যেতে অনীহা দেখা দিয়েছে এবং উপস্থিতিও কম থাকে।’
তারা জানান, অধিকাংশ ভোটারের বসবাস পাহাড়পুর এমদাদুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের আশপাশে হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্র সরিয়ে সংঘাত সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র পার হয়ে যেতে হয়। এতে উভয় ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ শিকদার বলেন, ‘গত তিন জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে, সে জন্য সব ধরনের সংঘাত এড়াতে পূর্বের ন্যায় পাহাড়পুর এমদাদুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানাই। অন্যথায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতের দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।’
বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা প্রায় ২ হাজার ২০০ ভোটার পাহাড়পুর এমদাদুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসার আশপাশে বসবাস করি। আমাদের উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ভোট চুরির সুবিধার্থে ডেকরিপাড় ফোরকানিয়া মাদরাসায় কেন্দ্র নিয়ে গেছে। আমরা কেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে নির্বাচন কমিশন, কমিশন সচিব, জেলা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি।’
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রটি ২০১৮ সালের পর পরিবর্তন করা হয়েছে। আরেকটি কেন্দ্র পার হয়ে ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। আশা করছি- সমাধান হবে।’