
ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিণিধিঃ
জন্ম থেকেই নেই দুই হাত। তবুও হার মানতে শেখেনি প্রতিবন্ধী শিশু আরশাদুল ইসলাম। বাঁচার একমাত্র ভরসা পড়াশোনা। আর্থিক অনটনের কারণে প্রায় এক বছর ধরে স্কুলের বাইরে থাকলেও তার চোখে-মুখে আজও স্বপ্নের ঝিলিক।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের শিদলাই ৮নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করছে আরশাদুল। জন্মের পর থেকেই নানীর কাছেই বড় হচ্ছে সে। তার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে হলেও বাস্তব জীবনের সংগ্রাম তাকে নানাবাড়িতেই রেখে দিয়েছে। আরশাদুলের বাবা সুমন মিয়া ছিলেন পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিন বছর আগে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। নানীর সহায়তায় কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল আরশাদুল। কিন্তু গত এক বছর ধরে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা। পড়ালেখা চালু থাকলে সে এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার কথা। আরশাদুলের মা মিনুয়ারা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া সদরে ভাড়া বাসায় অন্য সন্তানদের নিয়ে থাকেন। সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতে গিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে আরশাদুলকে নানাবাড়িতেই রেখে যেতে বাধ্য হন তিনি। অভাব-অনটন আর জীবন সংগ্রামও আরশাদুলের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারেনি। স্কুলে যেতে না পারলেও সুযোগ পেলেই বই-খাতা নিয়ে বসে পড়ে সে। সহযোগিতা পেলে আবারও নিয়মিত স্কুলে যেতে চায় এই অদম্য শিশুটি। স্থানীয়রা জানান, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আরশাদুল অত্যন্ত মেধাবী। যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পেলে সে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। এরই মধ্যে আরশাদুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। তার বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে (ইউএনও) শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু আরশাদুল ইসলামকে শিক্ষাসামগ্রী উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে প্রতিবন্ধী শিশু আরশাদুল। দুই হাত না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সহানুভূতির হাত ধরে সে এগিয়ে যেতে চায় আলোকিত ভবিষ্যতের পথে ৷ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) মাহমুদা জাহান বলেন, উপজেলার শিদলাই এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী আরশাদুল ইসলাম নামের এক শিশুর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ও উৎসাহিত করার জন্য তার প্রয়োজনীয় কিছু উপকরণসহ সাময়িকভাবে সহায়তা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধকতা কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। আরশাদুলের মতো আগ্রহী ও সাহসী শিশুর পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তার পড়াশোনা যেন কোনো কারণে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।