
দেবিদ্বার প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রামপুর জামি’আ কাসেমুল উলূম মাদ্রাসাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৩২ সালে মরহুম মাওলানা আব্দুল গফুর (রহ.)-এর উদ্যোগে ও মরহুম কালাগাজী ভূঁঞার দানকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি এক সময় দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে দেশের সেরা দশ ক্বওমী মাদ্রাসার তালিকায় স্থান করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এখান থেকে শিক্ষালাভ করে বহু প্রাক্তন ছাত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মরহুম প্রতিষ্ঠাতার ইন্তেকালের পর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুহতামিমদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে সাবেক মুহতামিম মাওলানা ছালমান ও সদ্য বিদায়ী মুহতামিম মাওলানা লোকমান বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, একক সিদ্ধান্তে শিক্ষক নিয়োগ ও ছাঁটাই, কমিটি গঠনে বাধা এবং মাদ্রাসার অর্থ ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণের মতো অভিযোগ আনা হয়।
কমিটির দাবি, এক সময় যেখানে ছাত্র সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০০ জন, সেখানে ধীরে ধীরে তা কমে বর্তমানে ১৭ জনে নেমে আসে, যা মাদ্রাসার জন্য চরম উদ্বেগজনক। রমজানকেন্দ্রিক ভর্তি মৌসুমেও ছাত্র সংখ্যা বাড়াতে ব্যর্থ হন সদ্য বিদায়ী মুহতামিম।
সংবাদ সম্মেলনে সদ্য বিদায়ী মুহতামিমের দেওয়া পাঁচ মাসের হিসাব প্রতিবেদনের নানা অসংগতি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আয়-ব্যয়ের সময়কাল অসামঞ্জস্যপূর্ণ, কৃষি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়, এলাকাবাসীর বহন করা মাহফিলের খরচ দেখানো এবং রমজান মাসের আয় উল্লেখ না করার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, একটি মহল মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সামনে এনে প্রকৃত দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। এমনকি বেফাকের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ থাকার মিথ্যা অভিযোগ পাঠানো হয়। তবে উপজেলা প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে ছাত্র ভর্তি ব্যাহত করার চেষ্টা করছে, যা মাদ্রাসার ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সবশেষে জানানো হয়, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন মুহতামিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী ও দাতা সদস্যদের সহযোগিতায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাদ্রাসার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
আব্দুল কাদের ভুইয়া স্বপনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদ্রাসা কমিটির সহ সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক, বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন, সৈয়দ আহাম্মেদ, মাসুদ আহামেদ চৌধুরী, আব্দুল মতিন গাজী, শামসুল হক, শফিকুল ইসলাম কালু মেম্বার, মোখলেসুর রহমান, মুজিবুর রহমান প্রমুখ।