
আল-আমিন কিবরিয়া, কুমিল্লা
কুমিল্লার বিভিন্ন সড়কে প্রায় অর্ধশত বছর আগে নির্মিত ১৯ টি বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব বেইলি সেতু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেশিরভাগই এখন চলাচলের অনুপযোগী। যে কারনে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
জেলার মুরাদনগর, দেবিদ্বারসহ আরও কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা যায়— ভেঙে গেছে সেতুর পাটাতন; কোথাও আবার তৈরি হয়েছে গর্ত। সেতুগুলোর ওপর দিয়ে বাস–ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল করায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ছোট-বড় যানবাহন গেলে কেঁপে উঠে সেতু। এছাড়াও সেতুগুলোর প্রস্থ কম হওয়ায় একসাথে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। যে কারণে একটি যানবাহন সেতুতে উঠলে অন্যটিকে সেতুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
সেঁতু সংলগ্ন মেটংঘর বাজারের ব্যবসায়ী মো. হেলাল বলেন, প্রত্যেক বছরই এটি ভেঙ্গে পড়ে। মানুষ নিহত ও আহত হয়। কয়েক মাস আগেও পণ্য বোঝাই ট্রাকসহ সেতু ভেঙ্গে পড়েছে।
কড়ই বাড়ি এলাকার অটো রিকশা চালক শাহীন মিয়া ও সাকিবুল হাসান বলেন, এই সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় এটি কাঁপে। দোয়া কালাম পড়ে পার হই। কড়ইবাড়ি, মেটংঘরের স্টিল সেতুর স্থলে পাকা সেতু প্রয়োজন। চাঁনপুর এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, গোমতী নদীর ওপর চাঁনপুর সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে কুমিল্লার তিনটি উপজেলাসহ পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও মানুষ যাতায়াত করেন। এটি সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এখানে গার্ডার সেতু সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে
কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বেইলি সেতু গুলো ধীরে ধীরে গার্ডার সেতুতে রূপান্তরিত হবে। ইতোমধ্যে ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে দুইটি বেইলি সেতুকে গার্ডার সেতুতে রূপান্তের কাজ শুরু হয়েছে।