
ঢাকা অফিস
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকদের একটি সূত্র। জানা গেছে, বেগম জিয়া মেডিসিন গ্রহণ করতে পারছেন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল বলতে পারেন। তিনি মেডিসিন গ্রহণ করছেন। শারীরিক অবস্থা অপরির্বতিত আছে।’
এ দিকে, টানা ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল পৌনে চারটার দিকে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। এ সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)।
অন্যদিকে, দুপুরের পর থেকে হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের তেমন ভিড় করতে দেখা যায়নি। শুধু কিছু পথচারীকে থমকে তাকাতে দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি না থাকলেও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সংবাদমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত আছেন।
এর আগে, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে বিদেশ নিতে দেরি হচ্ছে। সার্বক্ষণিকভাবে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রয়েছে। তবে, মেডিকেল বোর্ড মনে করছে এই মুহূর্তে তার ফ্লাই করা ঠিক হবে না। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিলেই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দয়া করে কেউ গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। মেডিকেল বোর্ড অত্যন্ত আশাবাদী। বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া আছে। যখন বোর্ড মনে করবে তাকে নিরাপদে ফ্লাই করানো যাবে তখনই নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাতার সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা করছেন। ওনার চিকিৎসা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।’
গত ১৩ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। পাকস্থলির জটিলতার কারণে গতকাল শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের এন্ডোস্কোপি করা হয়। শুরুতে কিছুটা রক্তক্ষরণ হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।