
আল-আমিন কিবরিয়া
চণ্ডীমুড়া, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। সপ্তম শতাব্দীতে বৌদ্ধ রাজা দেব খড়গ, তাঁর স্ত্রী প্রতীভা দেবীর অনুরোধে চণ্ডীমুড়ায়, চণ্ডী মন্দির ও একটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন। চণ্ডী মন্দিরে দেবী সরস্বতী এবং শিব মন্দিরে শিবকে স্থাপন করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে চণ্ডীমুড়া বিশেষ পরিচিত। প্রতি বছর তিনবার এখানে ভক্তবৃন্দের সমাবেশ ঘটে—কার্তিক মাসের কালীপূজার সময় দেওয়ানি উৎসব, পৌষ–মাঘ মাসে গীতা সম্মেলন এবং ফালগুন–চৈত্র মাসে বাসন্তী মহাঅষ্টমীর দিন। বর্তমানে সনাতন ধর্মালম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের পর্যটকরা প্রতিদিনই এ মন্দির পরিদর্শনে আসেন।
দেখা যায়, সমতল থেকে ৩০০ ফুট উচ্চতায় এ মন্দিরের অবস্থান। মন্দিরে পৌঁছাতে উঠতে হয় পাহাড়ের বুক বেয়ে প্রায় ২০০ সিঁড়ি। চূড়ায় পৌঁছালে চারপাশের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সৌন্দর্য একসঙ্গে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
মন্দিরে গিয়ে দেখা হয় গীতা রানী সাথে। তিনি বলেন, আমি চৌদ্দগ্রাম থেকে এসেছি। সকালে এসেছি। বিকাল পর্যন্ত থাকবো। আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও এসেছে। এখানে থাকতে আমাদের ভালো লাগে।
স্থানীয় রনি শীল বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে এখনে পুজা অর্চনা করি। এখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছুটে আসে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে।
চন্ডিমুড়া সেবা আশ্রম অধ্যক্ষ দুর্লভ দাস বলেন, প্রত্যেক উৎসবের ৪-৫ হাজার মানুষ হয়। এছাড়াও প্রত্যেক শুক্র শনিবার ভক্ত সমাগমটা বেশি হয়।