
প্রতিনিধি, দেবিদ্বার
খলিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের একটি বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যাপীঠের মাঠ দখলে থাকে পিকআপ, সিএনজি, অটোরিকশা ও হকারের। এছাড়াও মাঠে প্রায়ই রাখা হয় বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। যে কারনে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রাতঃকালীন সমাবেশ ও খেলাধুলা।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় মাঠের উপর দিয়ে অনবরত সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করায় শব্দদুষনে ব্যহত হচ্ছে শ্রেণীকক্ষের পাঠদান। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ভবন ঘেঁষে বাজার হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিদ্যালয়ের সামনে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সৈয়দা মাহনূর মরিয়ম বলেন, স্কুলের মাঠে সিএনজি অটোরিক্সা রাখায় আমরা খেলাধুলা করতে পারিনা। সকালের সমাবেশ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনে সমস্যা হয়। আমাদের শ্রেণীকক্ষের অন্যপ্রান্তে টয়লেট হওয়ায় আমরা সিএনজি-অটোরিক্সার কারণে টয়লেটে যেতে বাধাগ্রস্ত হই। যানবাহনের শব্দ, হর্ন বাজানোর কারণে শ্রেণীকক্ষে পড়া লেখা করতে পারিনা। একই কথা বলেন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনাছ, ফাইজা, আমেনাসহ অনেকে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম সরকার ও লাইলী আক্তার বলেন, বাচ্চাদের শারিরীক শিক্ষা ও সহপাঠ কার্যক্রম করানো যায় না। সড়ক আটকে যান চলাচল বন্ধ রেখে সমাবেশ করতে হয়। প্রায়ই মাঠে নির্মাণ সামগ্রীসহ নানা কিছু রাখা হয়। এছাড়াও মাঠের ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচল করায় এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী সিএনজি অটোরিক্সার ধাক্কায় আহত হয়েছে। আমরা চালকদের মাঠে যানবাহন রাখতে নিষেধ করলেও তারা শোনে না। আমরা দূর থেকে আসি এ জন্য ভয়ে কিছু বলি না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, এটি একটি প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শ্রেণিকক্ষের মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই সারিবদ্ধ করে সিএনজি-অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। সিএনজি অটোরিক্সার ফাঁক দিয়ে বাচ্চাদেরকে ক্লাসরুমে যেতে হয় আসতে হয় যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর। সিএনজি অটোরিক্সার জন্য বিকল্পস্থান করে দেওয়া জরুরী।
বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাখা অটোরিক্সাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, স্কুলের মাঠে অটোরিক্সা রাখা ছাড়া কোন উপায় নেই। বাজার, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্নকাজে লোকজন আসে, তাদের জন্য আমরা মাঠে অপেক্ষা করি। আমরা কি করব আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.জাহাঙ্গীর আলম মুন্সী বলেন, বর্তমানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন এ বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে সিএনজি-অটোরিক্সা পার্ক করে রাখে। অনেকে আবার নির্মাণ সামগ্রী ও অন্যান্য সরঞ্জাম রাখে। চালকদের বারবার বললেও তাঁরা কোন কথা শুনছেন না।
দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সিএনজি-অটো পার্ক করে রাখা, এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি একটি স্থায়ী সমাধান করে দিবেন বলেছেন।