বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
সারাদেশে

কিডনি ও ৫৬বার রক্তদাতা আজ মৃত্যুর মুখে

  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ দেখেছেন :

নিজস্ব প্রতিবেদক

মনিরুল ইসলাম মুন্না। বয়স ৪২বছর। এখনও চেহারায় বয়সের চাপ পড়েনি। তার বাম কিডনি দান করেছেন। রক্ত দিয়েছেন ৫৬বার। নিজের দুটি চোখও মরণোত্তর দান করেছেন। সেই মুন্না এখন ভালো নেই। তার বাকি কিডনিটা অকেজো হয়ে গেছে। ডায়ালাইসিসের বিছানায় তার জীবন কাটছে। সেই দাতা তরুণ এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
তিনি কুমিল্লা নগরীর নতুন চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। মৃত আহসানুল ইসলাম ও আনোয়ারা বেগমের মুন্না একমাত্র ছেলে।
সরেজমিন মুন্নার বাসা ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে তিনি ডায়ালাইসিস করেন। ফ্যাকাশে মুখ করে সাদা বেডে শুয়ে আছেন। ধার দেনা করে চলছে চিকিৎসা। তার চোখে তন্দ্রা লেগে আসলেও তিনি চিকিৎসার খরচের দুশ্চিন্তায় আবার জেগে উঠেন। প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিসে প্রতিবারের খরচ ২৮০০টাকা। এছাড়া প্রতিদিনের ওষুধ খরচ প্রায় ২০০০হাজার টাকা। পরের বার ডায়ালাইসিস করতে পারবেন কিনা সেই আশংকায় থাকেন। মাঝে মাঝে টাকার অভাবে ডায়ালাইসিস করতে পারেন না। তখন পায়ে পানি নামে। শ্বাসকষ্ট বাড়ে, বাড়ে কাশির যন্ত্রণা। বাসায় এলে দুই মেয়ে বাবার কাধে ও পিঠে গড়াগড়ি করেন। বাবার কঠিন ব্যাধি, চিকিৎসা না পেলে দ্রুতই জীবন প্রদীপ নিভে যাবে তা জানেন না সন্তানরা। মুন্না তাদের মাথায় কপালে আদরের চুমু এঁকে দেন। মা আনোয়ারা বেগম ও স্ত্রী তানিয়া আক্তার দূর থেকে বাবা মেয়ের খুনসুটি দেখেন আর চোখ মোছেন। তিনি জীবন সাজাতে চেয়েছিলেন তার পেশা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মতো। কিন্তু রোগের ঝড়ে এখন সেই জীবন নৌকা এখন ডুবু ডুবু।
মুন্না জানান, ২০১৫সালে নগরীর রানীর বাজারের ফজলুল হকের ছেলে নাজমুল হাসান সুমনকে (২৫) কিডনি দান করেন মুন্না। সুমন তার বন্ধু রনির শ্যালক। সুমনের বাবাকেও মুন্না রক্ত দিয়েছিলেন। কিডনি দেয়ার পর তার কোন সমস্যা হয়নি। চলতি বছর সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন লাখে একজন দাতার এমন সমস্যা হতে পারে। তিনি সাহায্যের জন্য কুমিল্লা শহর সমাজ সেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছেন।
মুন্নার মা আনোয়ারা বেগম বলেন,আমার দুই ছেলের মধ্যে একজন মারা যায়। তাদের বাবাও মারা যান। মুন্না পরিবারের একমাত্র আয় করা মানুষ। দুই মেয়ে আছে। তাদেরও স্বামী মারা গেছেন। পরিবারের কোন আয় নেই। শুধু বসত ভিটাটা আছে। আমার ছোট দুটি নাতনি আছেন। একজন মাত্র কথা বলা শুরু করেছেন। ছেলেটাকে কেউ একটি কিডনি দান করলে তার জীবনটা বেঁচে যাবে।
মুন্নার প্রতিবেশী এবি পার্টি কুমিল্লার সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক বলেন, তার অন্তরে মানুষের জন্য গভীর মমতা রয়েছে। সে বিপদে ছুটে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তার কিডনি, রক্ত ও চক্ষু দান আমার দেখা এক অসাধারণ ঘটনা। তার পাশে সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাই।
আরেকজন প্রতিবেশী আবদুল আলীম বলেন,আচরণে মুন্না বিনয়ী। এমন ছেলেদের সমাজের খুব প্রয়োজন। সে সহায়তা পেলে একটা পরিবার বেঁচে যাবে।
মুন্নার চিকিৎসক কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাকসুদ উল্লাহ বলেন,মুন্নার একটি কিডনি আগে দান করেছেন। বাকি কিডনিও নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ যদি তাকে একটি কিডনি দান করেন তাহলে সে ভালো থাকতে পারবে। নতুবা তাকে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকতে হবে। এ রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। নিন্মবিত্তের পক্ষের তা বহন করা কঠিন।
কুমিল্লা শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন বলেন,আমরা মুন্নার একটা আবেদন পেয়েছি। তার দাবি যত দ্রুত পূরণ করা যায় আমরা সেই বিষয়ে কাজ করবো।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:মনিরুল ইসলাম মুন্না
সোনালী ব্যাংক,কুমিল্লা কর্পোরেট শাখা। হিসাব নং- ১৩০৯৪০১০৫০৫১২।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনন্য ক্যাটাগরির সংবাদ
© All rights reserved © Comillakantha.com
Theme Customized By Mahfuz