
কুমিল্লা প্রতিনিধি
সবজি চাষ করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বেতলতলী এলাকায় সড়ক বিভাজনে থাকা অন্তত ৫০টি বকুল ফুলের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ শনিবার থানায় মামলা দায়ের করার পর একমাত্র আসামি আজমিরি হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১২ টার দিকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম।
সওজ এবং স্থানীয়রা বলেন, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকার বেলতলীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকের উপর বেশ কিছু গাছ কাটা হয়েছে। কাটা গাছের বেশিরভাগই বকুল ফুলের গাছ। এ ছাড়া সেখানে বেলী ফুল, তালসহ অন্যান্য গাছ কাটা হয়েছে। এসব গাছের কোথাও কেটে নেওয়া হয়েছে গোড়া থেকে, আবার কোনোটি কাটা হয়েছে মাঝখানে। বেশ কিছু গাছ আগুনে পুড়িয়ে রাখা হয়েছে কেটে ফেলার জন্য। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় এভাবেই অন্তত ৫২টি বকুলগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বেলতলী এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আজমিরি হোসেন নামে এক ব্যক্তি এই গাছগুলো কেটেছেন। তিনি মহাসড়কের পাশে একটি টিনের ঘরে থাকেন। সেখানে ওই ব্যক্তি সবজি চাষ করার জন্য গাছ গুলি কেটে ছিলেন।
বকুল ফুলের গাছ কেটে ফেলার সংবাদ পেয়ে শনিবার বেলতলী এলাকায় আসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বেলতলীতে নির্মাণাধীন মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে এসে দেখেছি, মোট ১৭টি গাছ কাটা হয়েছে। শুনেছি, আশপাশে আরও বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। আমরা থানায় মামলা করেছি।
কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. আবু মোহাম্মদ নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই লক্ষ্য করছি, একটু একটু করে গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। একটি গাছের প্রথমে ডালপালা এবং পরে কয়েক ধাপে পুরো গাছই নাই হয়ে যাচ্ছে। আমি বিষয়টি কয়েক দিন ধরে লক্ষ রাখছিলাম। সকালে যাওয়ার সময় এক রকম দেখি, বিকেলে ফেরার সময় আরেক রকম। কোনো কোনো গাছ আজকে সবুজ দেখেছি, পরের দিন দেখি আগুনে পোড়া। ‘এভাবে গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি করা হয়েছে। এই বকুলগাছগুলো মহাসড়কের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়েছিল। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর বকুল ফুলের সৌরভ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যে বা যারাই গাছগুলো কেটেছে, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
তবে গ্রেপ্তারের আগে শনিবার দুপুরে অভিযুক্ত আজমিরি হোসেন বলেন, ‘এসব গাছ রাস্তায় লাগিয়ে জনগণের কোন উপকার হয়নি। এমন ফল গাছ লাগাবো যা খেয়ে মানুষের উপকার হবে। কিছু সবজিও লাগাবো। ’
সওজ সূত্র জানায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, মহাসড়কটি ২০১৬ সালে চার লেনে রূপান্তর করার পর সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে অন্য লেনের গাড়ির ওপর না পড়ে, সেজন্য বিভাজকের ওপর লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। মহাসড়কের বিভাজকটি কোথাও ফুল গাছে, আবার কোথাও অন্যান্য বৃক্ষে সাজানো হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত প্রায় ১৯২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মহাসড়কের প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বকুল, কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, রাধাচূঁড়া, হৈমন্তী, টগর, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, পলাশসহ নানান ফুলের ৫০ হাজারের বেশি গাছ রোপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন স্থানে বিভাজকের ওপর লাগানো হয়েছে জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, আকাশমণি, নিম, একাশিয়া, হরীতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৪০ হাজারেরও বেশি গাছ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, মহাসড়কের বেলতলী এলাকায় প্রায় ৫০টি বকুল গাছ এক ব্যক্তি কেটে নেয়ার ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি মো. সেলিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি আজমিরি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সাওড়াতলী গ্রামে। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।