
মো: ওমর ফারুক মুন্সী
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গিয়াস উদ্দিন নামে এক কৃষকের মাছের প্রজেক্টের পুরো মাছ বিষ দিয়ে নিধন করে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক ৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ নভেম্বর দুপুরে ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশে লিজ নেওয়া মাছের প্রজেক্টে।
অভিযুক্তরা হলেন, কাজিয়াতল গ্রামের আঃ খালেক মিয়ার পুত্র মোঃ আবুল (৪৫), আবুল কালাম (৪২), আঃ বারেক এর পুত্র আনিছ (৩০), দৌলত খানের পুত্র নূর ইসলাম (৪৫), অভিযুক্তরা উভয়েই ভুক্তভোগী প্রতিবেশী।
অভিযোগের ভিত্তি ও ঘটনার দিন সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষক গিয়াস উদ্দিনের সাথে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মামলা মোকদ্দমা চলছিল। একাধিকবার ভুক্তভোগীর পরিবারের উপর হামলা, মারধর ঘটনা ঘটিয়েছে বিবাদীরা। সেই ঘটনার মামলার জের ধরে অভিযুক্তরা কৃষক গিয়াস উদ্দিনের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন তার চাষকৃত মাছের পুকুরে বিকেলে নিয়মিত খাবার দিয়ে বাড়িতে চলে যান। ঘটনার দিন ১১ নভেম্বর সকালবেলা স্হানীয় এক প্রতিবেশী পুকুরের মাছ মরে ভেসে যেতে দেখে খবর দেন। তিনি এসে দেখেন পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে ওঠেছে। দ্রুত জাল দিয়ে ধরে কিছু মাছ বাজারে নিলেও ততক্ষণে পুকুরের সকল মাছ মরে পানির নিচে চলে যায়। পরের দিন সকালে সমস্ত মাছ পঁচে ভেসে ওঠে। চার একরের পুকুরটিতে তিনি বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করেছেন বলে জানান। ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে ঘটনার আগের দিন পুকুরের আশেপাশে অভিযুক্তদের অবাধে ঘুরাফেরা ও স্হানীয়দের কথার উপর সন্দেহে তিনি তার সাথে পূর্ব শত্রুতা থাকা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এবং মাছের সাথে এমন নেক্কারজনক ঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়ে সর্বোচ্ছ বিচারের দাবী জানান।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একটি নেক্কারজনক ঘটনা, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।