সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতীয়তাবাদী শক্তি এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী।
মনোনয়ন পাওয়ার পর কুমিল্লায় ফিরে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লা নগরীর চৌয়ারা এলাকায় নিজ বাসভবনের এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, আমি গত ৬৩ বছর ধরে রাজনীতি করছি। আমাকে বাদ দেওয়ার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আমার আসনকে কখনো নাঙ্গলকোট, কখনো লাকসাম, কখনো আবার চৌদ্দগ্রামের সঙ্গে দিয়ে আমাকে বাদ করতে চেয়েছিল। সাবেক মন্ত্রী লোটাস কামালের রোষানলে পড়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছি। দল থেকে বিচ্যুত হইনি। আলহামদুলিল্লাহ দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। আমার জীবনের শেষ সময়েও দল আমাকে সম্মানিত করেছে। আমি জীবন দিয়ে হলেও দলের সম্মান বজায় রাখবো।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমা মেরে ৮ যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাকেও আসামি করা হয়েছিল। আমি দীর্ঘদিন জেল খেটেছি। ২০১৮ সালে জেলে থেকে নির্বাচন করেছি। তারা (আওয়ামী লীগ) নিজেরা পেট্রোল বোমা মেরে আমাদেরকে আসামি করেছে রাজনীতি থেকে আমাদের মাইনাস করার জন্য। আমার জন্ম স্থান সদর থেকে জীবনের শেষ নির্বাচনটি করতে চাই। এটা আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি । আমি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অতীতের ন্যায় পাশে চাই।
অনুষ্ঠানে মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, সদর দক্ষিণ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুমিল্লার বড় বড় রাস্তা ব্রিজের প্রকল্প যেখানেই আটকে যায় খবর পেয়ে চেষ্টা করেছি সমস্যা সমাধান করতে। নিজের চেষ্টায় অসংখ্য প্রকল্প সরকারের কাছে নিয়ে গিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা শহর তো এমন ছিল না। এটি বসবাসযোগ্য নয়। তিনি বিজয়ী হলে সকলকে নিয়ে একটি বাসযোগ্য শহর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ইপিজেডের প্রসঙ্গে তুলে মনিরুল হক বলেন, বর্জ্য শোধনাগার থেকে লোকালয়ে বিষাক্ত বর্জ্য যাচ্ছে। খালে এখন মাছ, সাপ ও ব্যঙ কিছুই নাই। খালের পাড় দিয়েও বিষাক্ত গন্ধের কারণে হাটা যায় না।
তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মনিরুল হক বলেন, মনোনয়ন দিয়ে আমাকে সম্মানিত করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আশা করছি কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে কুমিল্লার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য সহায়তা করবে। কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, হাজী ইয়াছিন দীর্ঘ দিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন। তার অবদান খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমি হাজী ইয়াছিনসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে শিগগিরই বসবো। সকলের সহায়তা নিয়ে এ আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করবো ইনশাল্লাহ।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাসা থেকে কুমিল্লার নিজ এলাকায় যান বিএনপি চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা। এ সময় দলের মনোনয়ন পাওয়ায় শত শত নেতাকর্মী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাকে বরণ করে নেন। নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন মনিরুল হক চৌধুরী।
তাঁকে বরণ করতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, কোটবাড়ি বিশ্বরোড ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় হাজারো নেতা কর্মী মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে স্বাগত জানায়। এ সময় নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে মনিরুল চৌধুরী নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।