রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
সারাদেশে
শিক্ষা খাতে যখনই বাজেট আসবে তখন চিল্লাইয়া বলব ভিক্টোরিয়া কলেজ; কৃষিমন্ত্রী কুমিল্লায় বিএনডিএস ‘বর্ষবরণ বিতর্ক উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত এবারও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হেলিকপ্টার নিয়ে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে চালু হলো স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা জনগণের সাথে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করবেন না: হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন সুশাসিত ও সুন্দর বাংলাদেশ- কৃষিমন্ত্রী কুসিকের ৬ষ্ঠ প্রশাসক হলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু ছায়া বিতানের ময়লা ভিক্টোরিয়া কলেজে কুমিল্লা শ্রীকাইল গ্যাস ক্ষেত্রের ৫ নম্বর কূপ উদ্বোধন ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাইের মৃত্যু

চান্দিনায় সড়কের পাশে গাছগুলো যেন বিজ্ঞাপনের ‘ফ্রি হোর্ডিং বোর্ড’

  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৪ দেখেছেন :

সংবাদদাতা, চান্দিনা

সড়কের পাশে গাছগুলো যেন  বিজ্ঞাপনের ‘ফ্রি হোর্ডিং বোর্ড’ কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার প্রতিটি সড়কপথ যেন এখন এক একটি চলমান বিজ্ঞাপন কেন্দ্র। সড়কের দুই পাশে থাকা গাছের গোড়া থেকে মধ্যভাগ পর্যন্ত ঝুলে আছে নানা রঙের বিলবোর্ড। জীবন্ত গাছে নির্বিচারে পেরেক মেরে সাঁটানো হচ্ছে রাজনৈতিক দলের, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওইসব সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড।

পরিবেশ ও প্রকৃতির কথা চিন্তা না করে উর্ধ্বতন নেতাদের আশির্বাদ পাওয়ার আশায় এবং জনসম্মুখে নিজেকে রাজনৈতিক দলের নেতা বনে যাওয়ার অপচেষ্টায় গাছে গাছে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড সাঁটাতে মগ্ন হয়ে পড়েছে নেতা-কর্মীরা। চটপটির দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিকিৎসকের সাইনবোর্ডও ঝুলছে জীবন্ত ওই গাছগুলোর গায়ে। আর ওইসব সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড গাছে সাঁটানো হচ্ছে বড় তারকাটা ও  পেরেক মেরে। গাছগুলোর দিকে ভালভাবে তাকালে মনে হবে যেন প্রকৃতি নির্বাক হয়ে সহ্য করছে মানবসৃষ্ট ওই পেরেক সন্ত্রাস।

বেদনাদায়ক হলেও সত্য। খোদ চান্দিনা উপজেলা পরিষদের সামনে পেরেক মেরে গাছে সাঁটানো হচ্ছে এসব প্রচারসামগ্রী। অথচ প্রতিদিন প্রশাসনের লোকজন যাওয়া-আসা করছে এ গাছের সামনে দিয়ে। বিশেষ করে থানা, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন মোড়ের গাছে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড সাঁটানো আছে। এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও উপজেলা সদরের সড়ক বিভাজনে থাকা সৌন্দর্য বর্ধক গাছগুলোও ছাড় নেই। যা দেখে মনে হয়, গাছ নয়-বিজ্ঞাপন সাঁটানোর ‘ফ্রি হোর্ডিং বোর্ড’!

জীবন্ত গাছে পেরেক ঠোকা পরিবেশ ও বন আইনে স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। প্রশাসন নীরব থাকায় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাছকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন সাঁটানোর মাধ্যম হিসেবে, ব্যানার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে গাছের গায়ে ঠোকানো হচ্ছে বড় বড় পেরেক, যেগুলো গাছের অভ্যন্তরীণ কোষ ধ্বংস করে দেয়। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গাছ ধীরে ধীরে মরে যায়। যা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে উপজেলা সদরের কেন্দ্রস্থল ছাড়িয়ে ছায়কোট-শ্রীমন্তপুর, বরকইট মাধাইয়া, নবাবপুর, কুটুম্বপুর-কালিয়ারচর ও চান্দিনা মোকামবাড়ি এবং বাড়েরা-মাইজখার সড়কপথের দু’পাশজুড়ে এই দৃষ্টিকটু চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে শত শত গাছ গায়ে পেরেক মেরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। পেরেকের যন্ত্রণা, সূর্যের তাপ ও জৈব ক্ষত একত্রে গাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। অনেক গাছ ইতিমধ্যে শুকিয়ে গেছে, আরও অনেক গাছ তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি হারিয়ে ফেলেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনন্য ক্যাটাগরির সংবাদ
© All rights reserved © Comillakantha.com
Theme Customized By Mahfuz