
১৭ বছর পর দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা, রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আহ্বান এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর
দেবিদ্বার প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ১৭ বছর পর কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সভায় এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় রোগীরা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে আসে। তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং দ্বিতীয় ভরসা রাখে চিকিৎসকদের ওপর। তাই চিকিৎসকদের রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে এবং আন্তরিকভাবে কথা বলতে হবে। এতে রোগীর অর্ধেক রোগ সেখানেই কমে যায়।
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষ ডাক্তারদের ডিগ্রি দেখে বিচার করে না, বরং দেখে ডাক্তার তার সঙ্গে কতটা সময় দেন এবং কতটা আন্তরিকভাবে কথা বলেন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি বেতনে জীবনযাপন কঠিন হলেও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বলেন, দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ২০০৯ সালের পর প্রায় ১৭ বছর পর এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ চিকিৎসকদের সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত সময় বা প্রাইভেট প্র্যাকটিস তারা করতে পারবেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সব সময় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলে একটি অস্বস্থিকর পরিবেশ তৈরি হয়। চিকিৎসা একটি মানসিক স্থিরতার পেশা, তাই চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পরিবেশও তৈরি করতে হবে।
এ সময় হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের উদ্দেশেও তিনি রোগীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষ হাসপাতালে বেড়াতে আসে না, জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসার আশায় এখানে আসে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: মহিবুস ছালাম খাঁন প্রমূখ।