
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি পুরোনো সংবিধানের কথা বলা হয় তাহলে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকেই এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে। আপনারা কি সেটা মেনে নেবেন? আপনারা যদি সংবিধানের দোহাই দেন তাহলে সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয় নাই। এই প্রধান বিচারপতি হয় নাই। তারেক রহমানের সরকারও সংবিধান অনুযায়ী হয় নাই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা স্টেশন ক্লাবে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোট, বিচার, সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা অযথা পানি ঘোলা করবেন না। গণভোটে আমরা হ্যাঁ এর পক্ষে ছিলাম। হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সেই গণভোটের গণরায়কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে। গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে আদালতে। আমরা সেটা মানব না। জনগণের ম্যান্ডেটকে আদালতে নিয়ে আদালতকে বিতর্কিত করবেন না। জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে গেলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব। সংসদকে সংস্কার পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। গণরায় অনুযায়ী সব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বিকল্প আমরা কোনো কিছুই মেনে নিব না।
বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে অবিলম্বে দাবি জানাতে হবে। তাকে ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।
ভারতের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে, জুলাই অভ্যুত্থানকে মেনে নিতে হবে এবং শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দিতে হবে। তারপরেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিবেচনা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক বছরের পথচলা উপলক্ষে এনসিপির ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিভাগের উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- এনসিপির সদস্য সচিব এবং সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। এতে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহসহ বিভাগীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, আমরা বাংলাদেশটাকে চব্বিশের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে বাস্তবায়ন করতে চাই। আমাদেরকে আগামী দিনে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপকভাবে জয়লাভ করতে হবে। আমাদের রাজপথে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, গণভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা রাজপথে নামতে প্রস্তুত আছি।
মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, শহীদ উসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা যতই ছলচাতুরী করেন কোনো লাভ হবে না। হাদির বিচার আমরা আদায় করে নেব।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন।
সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গণভোটের রায় অনুসারে বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করতে হবে। জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা যাবে না। ইনসাফের সমাজ বিনির্মাণে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আমরা কোনোভাবেই পূর্বের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই না। এনসিপি দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায় ইনসাফের পক্ষে কথা বলব। অন্যায়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।