সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
সারাদেশে
‎দাঁড়িপাল্লা ক্ষমতায় আসলে আগামীতে দেশে উন্নয়নের ব্যাপক আয়োজন সৃষ্টি হবে -ডাঃ তাহের ধানের শীষ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের ছবি সাঁটিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ভোট পারফেক্ট করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ : প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনি সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে সরকারের প্রতিক্রিয়া জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে মাঠে আনসার-ভিডিপি নিরপরাধ আওয়ামী নেতা কর্মীদের প্রতি উদার হতে হবে; আলাল গোমতীর পাড়ে সূর্যমুখীর হাসি ব্রাহ্মণপাড়া ৭১ মাল্টিমিডিয়া হাই স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী মুরাদনগরের মানুষকে টাকা দিয়ে কেনা যায় না – কায়কোবাদ চান্দিনায় বিএনপি প্রাথী রেদোয়ান আহমেদ এর জনসভায় জনতার ঢল

নির্বাচনি সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে সরকারের প্রতিক্রিয়া

  • আপডেট সময়: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ দেখেছেন :

ঢাকা অফিস

নির্বাচনি তফশিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংখ্যাটি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে এবং ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হচ্ছে। তবে বিষয়টি অন্ধভাবে পুনরুক্তি না করে গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে বলে জানিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এসব কথা জানায়।

বার্তায় বলা হয়, পুলিশের নথি অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি ঘটনাকে সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এর মধ্যে একটি ছিল তরুণ রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয় উল্লেখ করে সরকার বলছে, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ।

এটি শুধু একজন তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে নীরব করার চেষ্টা ছিল না, বরং একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে দেশে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দেশ প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েনি এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়নি।

সরকারের মতে, টিআইবির প্রতিবেদনে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়নি, তা হলো প্রেক্ষাপট। বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনে ছয়জন নিহত হন।

২০১৮ সালের রাতের ভোটে প্রাণ হারান ২২ জন। আর ২০১৪ সালের সরকারিভাবে কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু হয়।

এই ইতিহাসের আলোকে বর্তমান নির্বাচন পূর্ব সময়কে নিরাপত্তার ভয়াবহ ভাঙনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরা সহজে টেকসই হয় না বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

টিআইবির পরিসংখ্যান ও সরকারি তথ্যের পার্থক্য কোনো ধামাচাপা দেওয়ার ফল নয় উল্লেখ করে সরকার বলছে, এটি মূলত মৃত্যুর ঘটনাগুলো শ্রেণিবিন্যাস করার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদের প্রতিফলন। টিআইবি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত যে কারও হত্যাকাণ্ডকে নির্বাচন সম্পর্কিত বলে গণ্য করছে—হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক। বিপরীতে সরকার কেবল সেসব মৃত্যুকেই গণনায় নিচ্ছে, যেগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কার্যক্রমের সরাসরি ও প্রমাণযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই পদ্ধতিকে সমানভাবে বিবেচনা করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি এবং নিরাপত্তাহীনতার ধারণা অতিরঞ্জিত হয়।

বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই যে জননিরাপত্তা এখনও নিখুঁত অবস্থায় নেই, এ কথা উল্লেখ করে বার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দীর্ঘদিনের রাজনীতিকরণ, অপব্যবহার ও দমন-পীড়নের কারণে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ভেঙে পড়ে। এ কারণেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একটি অন্তর্বর্তী, নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়েছিল।

ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ বা বরখাস্ত করেছে, বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করেছে, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সমাবেশ ও নির্বাচনকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে।

ওসমান হাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন—এই তিনটি আবেগঘন ও নজিরবিহীন পাবলিক প্রোগ্রামের শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা প্রমাণ করে, যেখানে আগে পেশাদারিত্ব অনুপস্থিত ছিল, সেখানে এখন সংযম ও পেশাদারিত্ব সম্ভব।

কোনো সরকারই সহিংসতার সব প্রচেষ্টা ঠেকানোর শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে না—বিশেষ করে যখন প্রভাবশালী কিছু পক্ষ সচেতনভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতো নয়। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মাঠে রয়েছেন।

এই বাস্তবতাগুলো মিলেই আশার জায়গা তৈরি করে—এই নির্বাচন হয়তো অবশেষে সেই ভয় ও সহিংসতা চক্রের অবসান ঘটাতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের নির্বাচনগুলোকে ঘিরে ছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনন্য ক্যাটাগরির সংবাদ
© All rights reserved © Comillakantha.com
Theme Customized By Mahfuz