
প্রতিনিধি, চান্দিনা
কুমিল্লার চান্দিনার চিলোড়া বাজারে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় তুলকালাম কান্ড ঘটে। এলডিপি নেতা-কর্মীদের দোকানপাট এবং বসত বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চিলোড়া বাজার। চুরির ওই ঘটনাটি বিএনপি-এলডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এসময় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি’র অঙ্গ সংগঠন গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম (৩৫) কে কুপিয়ে যখম করে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চান্দিনা সরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। তবে তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর নয়। ওই ঘটনায় ১টি মটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়া হয় এছাড়া ৪টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় ওই সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। হামলাকারীরা এসময় পুলিশের উপরও হামলা করে। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটন এর খাবার হোটেল, গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম এর ভাই হোসাইন এর একটি চা দোকান ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষ বিএনপি’র লোকজন। এছাড়া ছোটনের খাবার হোটেল থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, বসত বাড়ি ভাঙচুর করে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটন জানান, চিলোড়া বাজার জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য দান অনুদানের যে টাকা পাওয়া যায় সব সময় সেগুলো গণতান্ত্রিক যুবদল উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম এর মুদি দোকানে রাখা হয়। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাত ২:৩০ মিনিটে দোকানের সাটারের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় ওই দোকানের ক্যাশ ভেঙ্গে মসজিদ ও দোকানের টাকা নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরা যাচাই করে দেখা যায় পার্শ্ববর্তী এতবারপুর গ্রামের মৎস্যজীবী দল নেতা রোকন এর ছেলে রিফাত (১৫) ওই চুরির ঘটনা ঘটায়।
পর দিন রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত রিফাতকে চিলোড়া বাজারে পেয়ে আটক করা হয়। এসময় উত্তেজিত মানুষ রিফাতকে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। ওই ঘটনার জের ধরে রিফাতের গ্রাম এতবারপুর, পৌরসভার হারং ও মহারং এলাকার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লা গণতান্ত্রিক যুবদল উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম এর বসত বাড়িতে হামলা করে তাকে বেধরক মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে মারধর এবং দোকান ভাঙচুর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
তিনি অভিযোগ করেন- চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নূরু, পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক দোলন, এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে ওই হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
অভিযুক্ত চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নূরুল ইসলাম মুন্সী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন- আমার মা অসুস্থ থাকায় আমি সারাদিন কুমিল্লাতে আছি। এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
উপজেলা এলডিপি’র সভাপতি একেএম শামসুল হক মাস্টার বলেন- বিএনপি সম্প্রতি সারা দেশে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে কোন প্রার্থী দেয়নি দলটি। যুগপৎ আন্দোলনে আমরা বিএনপি’র সাথে স্বৈরাচার বিরোধী সকল আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। ফলে এই আসনে আমাদের দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এর মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দিলে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শাওন ও তার লোকজন ইচ্ছাকৃত ভাবে এলডিপি’র নেতাকর্মীদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা সব সময় সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে চাই। তবে, আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর লুটপাট হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনী ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছি।
উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী আরশাদ বলেন- সন্দেহজনক ভাবে ১২ বছরের একটি ছেলেকে মারধর করার খবর পেয়ে আমাদের কিছু নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ৪-৫ জন নেতাকর্মীকে মারধর করে।
এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ৫টি মটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
চান্দিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম রবিবার সন্ধ্যায় জানান, চুরির ঘটনা থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।