বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় ৩জনের ১০বছর কারাদণ্ড

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা এক বিদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডিতরা হলেন, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পেঁচার দ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে মো. আনছারুল্লাহ , আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল গফুর এবং এজাহার মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন। একই মামলায় কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশাররফ হোসেন টিটু এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মহিউদ্দিন মঈন।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন ওই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তিনি ১৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মারমেইড বিচ রিসোর্টের পাশে অবস্থিত একটি কটেজে ওঠেন। দুই দিন পর গভীর রাতে দণ্ডিত আসামিরা কটেজে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন। পরে কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার শহরে এনে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
তদন্তে পুলিশ জানায়, কটেজের এক নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল গফুর ও বেলালকে সেখানে ডেকে আনেন। তারা মূলত চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করলেও পরে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন।
পরে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।
