নিজস্ব প্রতিবেদক |
কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি নির্মাণাধীন গ্রামীণ সড়ক নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলার পাঁচকিত্তা ইউনিয়নের হারপাকনা-মোস্তফাপুর এলাকার বিপুলসংখ্যক লোকজন এ প্রতিবাদ জানান।
‘আমার মনে হয়, তারা চায় না রাস্তাটি হোক’
জানা গেছে, হারপাকনা-মোস্তফাপুর সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার করার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় এক নারী তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণে আপত্তি জানায়। এজন্য বর্তমানে ৬২০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কটির প্রস্থ ১০ ফুট। তবে এরই মধ্যে সৃষ্টি হয় নতুন এক জটিলতা। স্থানীয় এক যুবক সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তবে এ বিষয়ে এলাকাবাসীর বক্তব্য ভিন্ন। তারা ওই অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
পাঁচকিত্তা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘হারপাকনা-মোস্তফাপুর গ্রামের উন্নয়ন হোক, এটা একটি পক্ষ চায় না। এজন্যই এমন করেছে। আমরা গ্রামবাসী দেখেছি, সড়কটি নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। কিন্তু এই সড়কটি যেন নির্মাণ না হয়, এজন্য একটি পক্ষ এমন করছে। যে ছেলেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে, সে বর্তমানে এসে সরেজমিনে দেখে যেতে পারে রাস্তার কাজের অবস্থা।’
স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ ও আল-আমিন বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণের শুরু থেকেই আমরা গ্রামের তরুণ-যুবকরারা কাজটি তদারকি করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম দেখতে পাইনি। যেখানে কাজের কোনোল ত্রুটি দেখেছি, সেখানেই আমরা নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সঠিকভাবে সমাধান করেছে। এখন একটি পক্ষ চায় না আমাদের গ্রামের সড়কটি নির্মাণ হোক। এজন্য তার এমন করছেন। আমরা তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। আমরা আমাদের গ্রামের উন্নয়ন চাই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেওয়া ইয়াসিন আহমেদ নামে ওই যুবকের কাছে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে তিনি আমাদের তার এলাকায় যেতে বলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রাখেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তিনি বলেন ‘আমি ভিডিও ডিলিট করে দেব। আর যদি কাজ ঠিক হয়ে থাকে, তাও আমরা দেখব।’
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী বলেন, ‘হারপাকনা-মোস্তফাপুর সড়কটির নির্মাণকাজে সার্বক্ষণিক একজন সাইড ইঞ্জিনিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। আমিও মাঝেমধ্যে এসে কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করি। একটি নির্মাণাধীন সড়কের পাশের কংক্রিট তুলে কেউ যদি বলে কাজে অনিয়ম হচ্ছে, তাহলে আর কী বলার থাকে। সড়কে পিচ ঢালাইয়ের নির্ধারিত পুরুত্ব ৪০ মিলিমিটার থাকার কথা থাকলেও আমরা ৪৫ থেকে ৪৬ মিলিমিটার পেয়েছি।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামাল উদ্দিন
অফিসঃ হাজী তারু মিয়া ম্যানশন ( ৩য় তলা), কান্দিরপাড়, আদর্শ সদর, কুমিল্লা। মোবাইলঃ ০১৭১১১৮২৬৭২। Email Comillakantha@gmail.com. jkamal.uddin76@gmail.com