প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৭, ২০২৬, ৪:৩৩ পি.এম
ব্রাহ্মণপাড়ায় পৌষসংক্রান্তির মেলায় ফিরেছে গ্রামীণ উৎসবের রঙ
ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি
পৌষসংক্রান্তির মেলা ঘিরে গ্রামীণ উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। নানা বয়সী দর্শনার্থীর ভিড়ে জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মেলাকে কেন্দ্র করে মেলাসহ আশপাশের এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ।
বৃহস্পতিবার ( ১৫ জানুয়ারি ) সকাল থেকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল এলাকায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা প্রতিবছরই পৌষসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই মেলা উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে চলে আনন্দ উৎসব। মেলাকে কেন্দ্র করে মেলার আশপাশের বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাড়িঘরে আত্মীয়স্বজনের আগমন বাড়ে। ঘরে ঘরে দেখা যায় ঈদের মতো উৎসবের আমেজ। কাঙ্ক্ষিত মেলার অপেক্ষায় বছরজুড়ে প্রহর গুণেন স্থানীয় বাসিন্দা, দূর দূরান্তের দর্শনার্থী ও দোকানিরা। শুধু এই উপজেলা নয়, পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকেও দর্শনার্থীরা মেলায় আসেন। যার ফলে মেলার পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলাজুড়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা নানারকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। ক্রেতারা বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে পছন্দের জিনিসপত্র কিনছেন। কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউবা এসেছেন সবান্ধবে। কেনাকাটার উদ্দেশ্য না থাকলেও কেউ কেউ এসেছেন ঐতিহ্যবাহী মেলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
মেলায় বসেছে শিশুদের খেলনা, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা ধরনের পিঠা, কাঠের তৈরি পণ্য, বিভিন্ন জাতের মাছ ও মহিলাদের জন্য নানারকম প্রসাধনীর দোকানসহ বিভিন্ন পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের দোকান। শিশুদের ভিড় খেলনার দোকানে, নারীদের আগ্রহ প্রসাধনী ও পিঠার দোকানে। সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের দোকান ও অন্যান্য দোকানেও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মেলায় আসা দর্শনার্থী স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল খান চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর এই মেলায় না আসলে মন ভরে না। ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছি। ছোটবেলায় নিজের জন্য আসলেও এখন নিজের সন্তানদের জন্য আসি। এই মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য।
রোকসানা আক্তার নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, এই মেলাটা যুগ যুগ ধরে আমাদের এলাকায় বসে আসছে। এই মেলা আসলে ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে। আমাদের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। মেলায় আসলে গ্রামীণ সংস্কৃতির স্পর্শ পাই। শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আসলে আরও বেশি ভালো লাগে।
পার্শ্ববর্তী বুড়িচং উপজেলা থেকে আসা দর্শনার্থী মহিউদ্দিন বলেন, মেলা মানে বাঙালি বাঙালি একটা স্পর্শ, একটা চেতনা। মেলার খবর পেয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘুরতে এসেছি। মেলা থেকে গুড়ের জিলাপি বন্ধুরা মিলে খেয়েছি। মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে।
সোহেল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, আমি প্রতিবছরই এই মেলায় আসি। মেলা থেকে পরিবারের শিশুদের জন্য খেলনাসামগ্রী কিনেছি। মহিলাদের জন্য কিছু প্রসাধনী কিনেছি। সাংসারিক কাজের জন্য কিছু কাঠের জিনিস কিনেছি। পুরো মেলাটাই ঘুরে দেখেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামাল উদ্দিন
অফিসঃ হাজী তারু মিয়া ম্যানশন ( ৩য় তলা), কান্দিরপাড়, আদর্শ সদর, কুমিল্লা। মোবাইলঃ ০১৭১১১৮২৬৭২। Email Comillakantha@gmail.com. jkamal.uddin76@gmail.com